ফ্লার্টিং কি সম্পর্কে প্রতারণা নাকি অন্য কিছু?

ফ্লাটিং বিষয়টিকে অনেকেই বিপরীত লিঙ্গের কাউকে তোষামোদ করা বলেন। যদিও বিষয়টি তার থেকেও বড় কিছু। ধরুন কারো প্রতি আপনি দারুণভাবে অনুরক্ত, আচার-আচরণে এমন একটা অনুভূতি প্রকাশ করাই ফ্লাটিং। হতে পারে বাস্তবে তার প্রতি আপনার ততটা আকর্ষণ নেই। এ লেখায় তুলে ধরা হলো ফ্লার্টিং বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

বিভিন্ন কারণে মানুষ ফ্লার্টিং করে বলে জানা যায়। এগুলো হলো- ফান বা বিষয়টিকে মজা হিসেবে খেলোয়াড়সুলভ দৃষ্টিতে দেখা, সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা কিংবা বিষয়টি কেমন হয় তা বোঝার চেষ্টা, কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা, নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও কারো কাছ থেকে কিছু আদায় করার চেষ্টা।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে, ফ্লাটিং কী আপনার বর্তমান সঙ্গীর প্রতি প্রতারণা? এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের মত রয়েছে। তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

কারো চোখে চোখ রাখা এবং কিছুটা বেশি সময় এটা করা কি বর্তমান সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করা?

এ প্রশ্নটির উত্তরে অনেকেই বলছেন, একজন সঙ্গী থাকার পরেও আপনি যদি অন্যদের সঙ্গে ফ্লার্টিং করে বেড়ান তাহলে তা প্রতারণার নামান্তর। বর্তমান সঙ্গীর প্রতি এটিকে অবিচার হিসেবেই মানছেন তারা। অন্যরা আবার একে কিছুটা সহজভাবেই দেখতে আগ্রহী।

জে কোল নামে একজন বলেন, ‘আপনি যদি কারো সঙ্গে একটি সম্পর্কে আবদ্ধ থাকেন তাহলে ফ্লার্টিং নিঃসন্দেহে প্রতারণা।’

জেনিস নামে এক নারী বলেন, ‘কথা বলা, টেক্সট করা, অন্য মেয়ের ছবি তোলা ইত্যাদির সঙ্গে ফ্লার্টিংও প্রতারণা।’

অনেকে আবার ফ্লার্টিংয়ের পক্ষেই তাদের মতামত দিচ্ছেন। রাচেরু নামে এক নারী বলেন, ‘আপনি যখন বিষয়বস্তুতে থাকেন তখন বাস্তবে ফ্লাটিং কোনো প্রতারণা নয়। তবে আপনি যদি সত্যিই অন্যের সঙ্গে সিরিয়াসলি সে আচরণ করেন তাহলে তা প্রতারণা।’

সোউল স্ন্যাচার বলেন, ‘ফ্লাটিং কোনো প্রতারণা নয়, এটি অনেকটা আপনি তার পাশে আছেন, এমন অনুভূতি প্রকাশ।’

কোলডিয়েন্স বলেন, ‘ফ্লাটিং কী প্রতারণা? এ প্রশ্ন অন্যভাবে করলে বলা যায়- পানি কি ভেজা?’

ফ্লাটিং বিষয়ে রিলেশনশিপ কাউন্সেলর ডেনিস নৌলেস বলেন, ‘আমি এ কথা বলতে পারি না যে, ফ্লাটিং মানে প্রতারণা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে প্রতারণা শুধু তখনই বলা যাবে যখন তা ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। অর্থাৎ যখন ফ্লার্টিং আপনার বর্তমান সম্পর্কের ক্ষতি করবে তখন তা ক্ষতিকর।’

কোন পর্যায়ে তা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে?

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনি যখন ফ্লার্টিং করলেও বর্তমান সঙ্গীর কাছ থেকে তা গোপন করে রাখবেন তখন তা ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। কারণ আপনার সঙ্গী যখন বিষয়টি জানতে পারবেন তখন তার মাঝে প্রতিক্রিয়া হবে।

এক্ষেত্রে ফ্লাটিংয়ের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারো সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তায় যদি ফ্লার্টিং চলে আসে তাহলে তা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সীমানা না মেনেই যদি ফ্লার্টিং চলতে থাকে তাহলে তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যেতে পারে। আর এটিই সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কারো সঙ্গী যদি ক্রমাগত অন্যদের সঙ্গে ফ্লার্টিং করতে থাকে তাহলে তা নিঃসন্দেহে সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে বিষয়টির মাত্রা ও সীমারেখা থাকা উচিত বলেই মত তাদের।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: